জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস হারিয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে এক বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদ কক্ষে আনুষ্ঠানিক নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করেন।
এ সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উপস্থিত ছিলেন।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেজ কাকাউরিস পেয়েছেন ৯১টি দেশের ভোট।
ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদকক্ষে উপস্থিত ছিলেন খলিলুর রহমান। নিজের জেতার খবরের ঘোষণায় দুই হাত তুলে তাকে মোনাজাত করতে দেখা গেছে। নতুন সভাপতি হয়ে সাধারণ পরিষদ কক্ষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন খলিলুর রহমান।
এ নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে দ্বিতীয়বারের মতো বসছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। ৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
আগামী ০৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নেতাদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক।
আঞ্চলিক পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপের জন্য নির্ধারিত। বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস একই গ্রুপ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে; তবে সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য।
২০২০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এই পদে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ২০২৬ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছিল। তবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস ছাড়াও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি থাকায় ঢাকা তখন কিছুটা ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয় খলিলুর রহমানকে, যিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রার্থী পরিবর্তন করে খলিলুর রহমানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয় এবং তৌহিদ হোসেন বাদ পড়েন। এর মধ্যে ফিলিস্তিনও নির্বাচন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। মঙ্গলবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থী বাংলাদেশের প্রার্থীর কাছে হেরে গেছে।
Tag:
আরো পড়ুন: