শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, 'প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ২০২৮ সাল থেকে নতুন পাঠ্যক্রম চালু হবে।'
তবে এর আগেই আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সোমবার সচিবালয়ে সরকারের তিন মাসের কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস নামে বই যুক্ত হচ্ছে।
নতুন পাঠ্যক্রম না কি পরিমার্জন হবে এবং তা প্রণয়নের জন্য কমিটি হয়েছে কি না- এ বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের যে ১৬ বছর ছিল, তখন বাংলাদেশের তো রাষ্ট্র কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙেচুরে চুরমার হয়েছিল। শিক্ষার ছিল অন্যতম ভয়াবহ অবস্থা। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের নতুন প্রজন্মের, তরুণ প্রজন্মের মেধার বিকাশের জন্য যে কাজটুকু করা উচিত ছিল, তা মোটেই করা হয়নি। এখন ১৬ বছরের সব সমস্যা হয়তো একদিনে বা এক বছরে সমাধান করা যাবে না, এটা বাস্তব। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে, যতটা দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো করবো।’
তিনি বলেন, ‘এখানে পাঠ্যক্রমের ভেতরে একটি অংশ রয়েছে যেখানে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জন করতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন কিছু পাঠ্যক্রম বা বিষয় আমরা যোগ করছি, যেটি আমরা যেভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে ঢেলে সাজাতে চাই, সেটির আলোকে প্রণীত হবে। যেমন চতুর্থ শ্রেণি থেকে আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রীড়া বিষয়টি যোগ করবো। নতুন আরেকটি বিষয় হবে সংস্কৃতি, সেটাও চতুর্থ শ্রেণি থেকে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আমরা দুটো বিষয় নতুন যোগ করছি, যা সবার জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে। একটা হচ্ছে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং আরেকটা হচ্ছে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস একদিকে যেমন একটা বিষয় হবে এবং সেই সঙ্গে সেখানে যে মূল্যবোধ এবং নীতি আসবে, তার মাধ্যমেই কিন্তু আমরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবো। অবশ্যই এর সঙ্গে শিক্ষকদের দিকনির্দেশনার একটা ব্যাপার রয়েছে। শিক্ষকরা কীভাবে প্রশিক্ষণ করবেন, পাঠদান করবেন ক্লাসে, এই পুরোটা লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস কোর্সের ভেতরে থাকবে। আর নতুন করে আমরা তৃতীয় ভাষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছি। সেই তৃতীয় ভাষার ওপর একটা বেশ বড় ধরনের অধ্যায় আমাদের বিদ্যমান যে রূপরেখা আছে, তার ভেতরেই আসবে।’
তিনি বলেন, ‘সুতরাং নতুন বিষয় যোগ হচ্ছে চারটা। নতুন একটা বর্ধিত অধ্যায় যোগ হবে। সেগুলোর কোনোটা চতুর্থ শ্রেণি থেকে, কোনোটা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে। এর পাশাপাশি স্বাভাবিক ভাবেই যে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন ও বিয়োজনটুকু প্রয়োজন, এটা আমরা চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমাদের যারা বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবী রয়েছেন, তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে করবো।’
এ বিষয়গুলো কি আগামী বছর থেকে চালু হচ্ছে- জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা তিন মাসে সম্ভব নয়। উনি (উপদেষ্টা) ব্যাখ্যা দিলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে আমরা কী প্রবর্তন করছি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে কী প্রবর্তন করছি। আমরা প্রথমত এটাকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে বাস্তবসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করে এই ২০২৭ সালে দিচ্ছি। আর পুরো পরিবর্তন যেটা আশা করছেন, সেটার আমরা কাজ শুরু করেছি। ২০২৮ সালে গিয়ে আপনারা সেটা দেখতে পাবেন। তবে পরিমার্জন খুব সুন্দর হচ্ছে এবং চারটি নতুন বই প্রবর্তন হচ্ছে।’
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সরকার নিয়ে তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দলীয় বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি টিআইবির রিপোর্ট নিয়ে টিআইবিকে জিজ্ঞাসা করুন। সেই ব্যাপারে আমি কোনো উত্তর দিতে রাজি নই। টিআইবির কাজ টিআইবি করবে, আমার কাজ আমি করবো। এটা নবনির্বাচিত সরকার। তারা জানবে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করবে? সেটা আমাদের একান্ত বিষয়। টিআইবির এমন কোনো রিপোর্ট দেওয়ার সময় এখনো হয়নি, আমরা শুধু যাত্রা শুরু করেছি।’
বর্তমানে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ নামের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে নেওয়া আইসিটি প্রকল্পের পুরোটাই লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২৬ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করা হলেও সেগুলো একদম পড়ে আছে। এই অবস্থায় আবারও এই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকার এতে কতটুকু সফল হতে পারবে- এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের লুটপাট সম্পর্কে আমি তো উত্তর দিতে পারবো না। তবে আমরা এই মন্ত্রণালয় থেকে একটা কমিটি অতি শিগগির করবো। আমরা ১৮০ দিনের কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত। এটা শেষ হলেই একটি কমিটি করবো এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিগত সরকারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র ছাপাবো। এটা আমাদের ইচ্ছা আছে।’
তিনি বলেন, ‘আর ১৪ লাখ ট্যাব আমাদের লাগবে। আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা- এটা বিশাল প্রকল্প। এই বাজেট আমাদের পরবর্তী অর্থবছরের বাজেটে আছে। এই অর্থবছরে আমরা জিডিপির ২ শতাংশ পাবো। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, এই বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করা হবে।’
আরো পড়ুন: