সন্তানের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করেননি দাবি প্রতিমন্ত্রীর

সন্তানের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করেননি দাবি প্রতিমন্ত্রীর
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬ ২১:৫৮

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম দাবি করেছেন, তিনি সন্তানদের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করেননি। এটি অলৌকিক ভাবে মিলে গেছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে ছাঁটাই প্রস্তাবে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, প্রতিমন্ত্রীর বংশ মীরবাড়ী নামে একটি ইউনিয়নের নাম করা হয়েছে। ওনার দুই সন্তান দিগন্ত এবং সীমান্তের নামেও দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।

এরপর সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত কৈফয়ত দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মাসুদ সাহেব দুর্নীতি দমন কমিশনের ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় গিয়ে আমাকে ছাঁটাই করেছেন। আমি সংসদে ব্যক্তিগত ভাবে কৈফয়ত দিচ্ছি। বগুড়া আমার নির্বাচনী এলাকা। এর মোকামতলা উপজেলার দূরবর্তী দুটি ইউনিয়ন সৈয়দপুর এবং দেউলি। এই দুটি ইউনিয়ন অনেক বড় ছিল। স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই ও গণশুনানি করে সৈয়দপুর ইউনিয়নটি যেহেতু গাবতলী এবং সোনাতলা উপজেলা সীমান্তে, এই কারণে নতুন ইউনিয়নের নাম করেছেন সীমান্ত ইউনিয়ন। আরেকটি ইউনিয়নের নাম ছিল দেউলি, যেটি গাইবান্ধার একদম কাছে। অনেক দূরবর্তী হওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের শুনানিতে সেই ইউনিয়নের নাম রেখেছে দিগন্ত ইউনিয়ন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন- যে এই দুটি ইউনিয়ন না কি আমার দুই সন্তানের নামে রাখা হয়েছে। আমি বলতে চাই, চুয়াডাঙ্গার জীবনগর উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম আছে সীমান্ত ইউনিয়ন, ফেনীর ছাগলনাইয়ায় রয়েছে সীমান্ত বাজার এবং সীমান্ত বন্দর। কসবা উপজেলায় রয়েছে সীমান্ত বাজার, কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় রয়েছে সীমান্ত বন্দর ও হবিগঞ্জ পৌরসভায় রয়েছে দিগন্ত নামের একটি ওয়ার্ড। সন্দীপ উপজেলায় রয়েছে দিগন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বান্দরবান চিম্বুকে রয়েছে দিগন্ত বাজার। এ রকম সীমান্ত এবং দিগন্ত বহু নাম বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। উনি কেন এর সঙ্গে আমার সন্তানদের নাম জড়ালেন? মিরাকলি আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে ঠিকই, কিন্তু আমার সন্তানের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত এবং মীর দিগন্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমার যদি টেনশন থাকতো যে সন্তানের নামে করার, তাহলে তো প্রশাসনকে বলতাম ইউনিয়নের নাম রাখেন মীর সীমান্ত এবং মীর দিগন্ত। কিন্তু নামের আগে তো মীর নাই। আল্লাহ বাঁচাইছে, সংসদ সদস্য এটা বলেননি যে বিজিবির সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড, ওটা আমার ব্যাংক না। উনি দয়া করে যে বলেননি যে খুলনা থেকে পার্বতীপুরে যে ট্রেন যায় সীমান্ত এক্সপ্রেস সেটিও আমার ট্রেন। উনি দয়া করে বলেননি গুলশান-১-এ যে দিগন্ত টাওয়ার রয়েছে সেটিও আমার। আমি সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করবো, দিগন্ত টেলিভিশন আমার না। আমি অনুরোধ করবো, যেকোনো বিষয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে তথ্য না নিয়ে এটা বলার জন্য। আমি স্পিকারকে অনুরোধ করবো, তার এই বক্তব্যটি সংসদ থেকে এক্সপাঞ্জ করা হোক। ব্যক্তিগত ভাবে আমি হেয়প্রতিপন্ন হয়েছি বলে মনে করি।’