কারাগারে ধারণ ক্ষমতার ১.৭ গুন কয়েদি রয়েছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কারাগারে ধারণ ক্ষমতার ১.৭ গুন কয়েদি রয়েছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ফাইল ছবি।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, 'বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে অনুমোদিত ধারণ ক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৩ হাজার ১০৭ এবং নারী ২ হাজার ২৯ জন। বিপরীতে আটক আছে ৭৭ হাজার ৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬ জন এবং নারী ২ হাজার ৭৭ জন। যা ধারণ ক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুন।'

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে লিখিত ভাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

সংরক্ষিত আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'কারাবন্দিদের উৎপাদিত বিভিন্ন সামগ্রীর বিক্রয়লব্ধ লাভের ৫০ শতাংশ বন্দিদের প্রদান করা হয়।'

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দ্বারা নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনাকে দুঃখজনক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনগুলোতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এবং জোরালো ভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।'

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বা চুক্তি হয়নি। তবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল ওয়েপন্স) ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির বিষয়েও পরোক্ষ ভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটলে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।'

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, '২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশ-ইন করা দুই হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে দুই হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১১ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশ-ব্যাক করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।'

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভারত সীমান্তে স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন।'

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে আইস (ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন) আসক্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্যটি উদ্বেগজনক। দেশের সর্বত্র বিস্তৃত হওয়া মাদকের ভয়াবহতারোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করার বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া, মিয়ানমার ও ভারত সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে মাদকের অনুপ্রবেশরোধে অধিদপ্তর সীমান্তবর্তী জেলায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে নিয়মিত টহল অভিযান পরিচালনা করছে।'

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'গত এক বছরে (জুন ২০২৫ হতে মে ২০২৬) এক হাজার ৯৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার চোরাচালানি মালামাল আটক করা হয়েছে। এই সময়ে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় তিন লাখ ৭৫ হাজার ৫১৯টি অভিযান পরিচালনা করে এক কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৬ পিস ইয়াবা, ৫৫ হাজার ৯০৮ বোতল ফেনসিডিল, ১৮ হাজার ৪৬৩ কেজি গাঁজা এবং এক লাখ ৬ হাজার ৭০৯ বোতল বিদেশি মদ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া অত্যন্ত মারাত্মক ও মরণঘাতী ১৫ দশমিক ৫৭৭ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ২ দশমিক শূন্য ৮ কেজি কোকেন এবং ৬২ বোতল এলএসডি আটক করা হয়েছে। এ সময়ে দুই হাজার ১৮৯ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।'

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক মাদক নির্মূলে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সারাদেশে ৩০ হাজার ৭৪৪টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৯ হাজার ২৫১টি মামলা দায়েরপূর্বক ৯ হাজার ৬৮৫ জন মাদক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।'

বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ মে থেকে দেশব্যাপী মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানে ০৮ জুন পর্যন্ত মাদক সংক্রান্ত অপরাধে ৭ হাজার ৬৮৮টি মামলায় ১০ হাজার ৮৬৫ জনকে গ্রেপ্তারসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানে ১২৫টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্তে ২৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় করতে এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কিশোর গ্যাং সদস্যরা নিজেদের গ্যাংয়ের নামে যেসব ফেসবুক পেজ, গোপন গ্রুপ এবং টিকটক আইডি চালায় সেগুলো ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছে।'

তিনি বলেন, 'র‌্যাব-২ এর আওতাধীন মোহাম্মদপুর হতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হতে এখন পর্যন্ত ১১৯টি ছিনতাইবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ২৫২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'অনলাইন জুয়া/ বেটিং সাইট বন্ধ এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশের জনগণকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থা/প্রতিষ্ঠান সমন্বিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'

তিনি বলেন, 'দেশে অনলাইন জুয়া, বেটিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের বিস্তার রোধ এবং এসব অবৈধ প্ল্যাটফরম বন্ধ ও সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে যুব সমাজকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য সরকার ‘বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭ রহিতক্রমে জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'