ঝিনাইদহে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা: আসামি আবু তাহেরের মৃত্যুদণ্ড

ঝিনাইদহে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা: আসামি আবু তাহেরের মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬ ১৪:৩১

ঝিনাইদহের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে (৩৩) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার মাত্র চার মাসের মধ্যে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র ৫ কর্মদিবসে এই বিচার কাজ সম্পন্ন হলো।

দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে। সে পেশায় একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ছিল এবং নিহত শিশুর বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় থাকত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন এই মামলার শুনানি শুরু হয় এবং ১৭ জুন চার্জ গঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে গতকাল রোববার (২১ জুন) রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। আজ বিজ্ঞ আদালত আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে এই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ বছরের ওই শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে আবু তাহের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধে মারা যায় শিশুটি। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামি পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। গত ২৬ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

দ্রুততম সময়ে মামলার এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের পর আদালত ও সরকারের প্রতি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভিকটিম শিশুর পরিবার।

নিহত শিশুর বাবা বলেন, "সরকার ও বিশেষ করে আইনমন্ত্রী মহোদয়কে ধন্যবাদ জানাই এই মামলাটি গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার জন্য। আমরা চাই, উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর হয়।"

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম রায়ের পর গণমাধ্যমকে বলেন, "আমরা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সব তথ্য-প্রমাণ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। বিজ্ঞ আদালত আমাদের প্রত্যাশিত রায় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতেও যেন আসামির এই দণ্ড বহাল থাকে, এখন সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।"

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি রেকর্ড সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আইনজীবী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।