জাহেদ উর রহমান ইস্যুতে দিল্লির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ঢাকা

জাহেদ উর রহমান ইস্যুতে দিল্লির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ঢাকা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬ ১৯:৩৬

দিল্লি বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের ঢাকা ফিরে আসার বিষয়ে ভারতের দেওয়া ব্যাখ্যা ‘সন্তোষজনক’ নয় বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ঢাকা।

মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে করা প্রশ্নে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘তিনি (জাহেদ উর রহমান) সার্ক ভিসায় ব্যক্তিগত পাসপোর্ট নিয়ে এখানে এসেছিলেন। ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কমিটির ২৮তম সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার।’

‘দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়, যেটা ছিল বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করা। অবশ্য, তিনি স্বেচ্ছায় ঢাকায় ফিরে গিয়েছিলেন।’

বুধবার দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ঘটনায় জাহেদ উর রহমান সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসার ঘটনার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়।’

তিনি বলেন, ‘জাহেদ উর রহমান যে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওরা) এর বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব প্রদান করবেন- তা কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আগেই যথাযথ ভাবে অবহিত করা হয়েছিল। এরপরও দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।’

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বক্তব্যের প্রশ্নে মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, প্রতিটি রাষ্ট্রেরই তার নিজ নিজ ভূখণ্ডে বসবাসরত সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে। সংখ্যালঘুসহ দেশের সকল নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।’

দিল্লিতে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। কিন্তু বিমানবন্দরে তাকে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়টিও তারা স্পষ্ট করছিল না। এ পরিস্থিতিতে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার প্রতিবাদে সরকারি সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে পর দিন ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি।

ওই ঘটনার পর দিন ১৫ জুন ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাধেকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।