পদ্মাসেতুর রেল ভায়াডাক্ট নিয়ে অনিরাপত্তার তথ্য ভিত্তিহীন: রেলমন্ত্রী

পদ্মাসেতুর রেল ভায়াডাক্ট নিয়ে অনিরাপত্তার তথ্য ভিত্তিহীন: রেলমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৩

পদ্মাসেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকির যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ভায়াডাক্টের নিচে চলমান মাটি অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রেলমন্ত্রী জানান, ভায়াডাক্টের নিচের মাটি কোনো অপরিকল্পিত বা স্বেচ্ছাচারী উপায়ে কাটা হচ্ছে না। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষে এলাকাটিকে পূর্বের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই এই মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তবে এ ধরনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রকল্পের কারিগরি দিক তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক প্রকৌশল চর্চা অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষ হলে সেই অস্থায়ী মাটি অপসারণ করে জমিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ভায়াডাক্টের নকশা ও নির্মাণে প্রয়োজনীয় সব প্রকৌশলগত হিসাব-নিকাশ অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে মাটি অপসারণের সঙ্গে কাঠামোর নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের মোট ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার অংশের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার এলাকায় অস্থায়ী মাটি অপসারণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশে কাজ বাকি রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবশিষ্ট মাটি দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন। ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।