ময়মনসিংহে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

ময়মনসিংহে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
প্রতিকী ছবি।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬ ১৮:১৯

ময়মনসিংহে দশম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্র সৈকত হাসান আকাশ (১৫) হত্যা মামলায় দুই সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া, আরও দু’জনকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নাজমুল হক (২৬) ও এনামুল হক। এ মামলায় তাদের বাবা জিয়াউল হক (৫৭) এবং চাচা জুলহাস উদ্দিনকে (৩৭) ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। আসামিরা ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

এর মধ্যে জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিন ও নাজমুল হকের উপস্থিতিতে আজ আদালত রায় ঘোষণা করলেও অপর আসামি এনামুল হক পলাতক রয়েছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষেও আইনজীবী ছিলেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবু হানিফ খান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম খান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউল হকের মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার এ সম্পর্ক কোনো ভাবেই মানতে পারেনি। এরপর ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটিকে দিয়ে সৈকত হাসানকে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যার পর মৃতদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ২১ মে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আকরাম হোসেন বাদি হয়ে ২২ মে কোতয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পীরজাদা মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, 'রায় ঘোষণার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।'