কৃষক কার্ডে আরও তথ্যভিত্তিক হবে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা: কৃষিমন্ত্রী

কৃষক কার্ডে আরও তথ্যভিত্তিক হবে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা: কৃষিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০০

কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা আরও তথ্যভিত্তিক হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমে আসবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে কৃষকের উৎপাদন, চাহিদা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় আনা সম্ভব হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত ডেটাবেস তৈরি হবে। এতে কোন এলাকায় কী পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হয়, সে তথ্য সরকারের কাছে থাকবে। সেই অনুযায়ী আগাম চাহিদার তথ্য কৃষকদের জানানো সম্ভব হবে, ফলে উৎপাদন ও বাজারের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমবে।

তিনি বলেন, অনেক সময় অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য পান না। এমনকি বাজারে নেওয়ার খরচও ওঠে না বলে অনেক কৃষক ক্ষেত থেকেই সবজি তোলেন না। এই সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন পর্যায়ে সোলারচালিত মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার।

মন্ত্রী আরও জানান, কৃষক কার্ডের আওতায় শুধু ধান, গম বা পাটচাষি নন; লবণ, সুপারি, নারিকেল, পান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা এই কার্ডের মাধ্যমেই প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যেই সরকার কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে হতদরিদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ঝাটকা সংরক্ষণ ও প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সরকার জেলেদের সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তারা দাদননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইলিশ রপ্তানি বৃদ্ধিও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার তদন্ত করে দেখবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।