বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক (৮৫) মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
আবুল কাসেমের মেয়ে সূচিতা শারমিন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, 'রোববার দুপুরে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন অধ্যাপক আবুল কাসেম। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে তার মৃত্যু হয়।'
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়, তার স্ত্রী ফরিদা প্রধান। তার দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে শুচিতা শরমিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর দীপনকে দুবৃত্তরা হত্যা করে।
আবুল কাসেম ফজলুল হক দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে।
সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’ এর মতো ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে গুণী এই অধ্যাপকের। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’এর মতো একাধিক গ্রন্থ। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন।
আরো পড়ুন: