টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ৮ জন এবং কক্সবাজার শহরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে বিভিন্ন সময়ে উখিয়ার একাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। রাত ১টা থেকে ভোর পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ একাধিক পরিবারের সদস্যরা মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারান।
কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে পাহাড়ধসে ৭ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়। এছাড়া জামতলী ক্যাম্প ও অন্যান্য এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উখিয়ার ১১ নম্বর ক্যাম্পে রাত ৩টার দিকে নারী ও শিশুসহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় একজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় ভোরে পাহাড়ের অংশ ধসে বসতঘরের ওপর পড়ে এক ব্যক্তি নিহত হন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, শহরে পাহাড়ধসের ঘটনায় এক পরিবারের সদস্যরা আহত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রাতভর একাধিক স্থানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভয়াবহ এই পাহাড়ধসে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরো পড়ুন: