টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী

টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫৩

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। নগরের বেশিরভাগ এলাকার সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, আকমল আলী সড়ক, হাজীপাড়া, লালদিঘির পাড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, পলিটেকনিক মোড় ও গোলপাহাড়-কাজীরহাটসহ নগরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বাকলিয়া এলাকায় অনেক দোকানে পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হয়েছে। বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখছেন। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

চকবাজারের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, বৃষ্টির পানি ও ড্রেনের পানি এক হয়ে যাওয়ায় টয়লেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পানি নামছে না, দুর্গন্ধে বসবাসও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

আগ্রাবাদের বাসিন্দা রেহানা বেগম বলেন, ঘরের নিচতলায় কোমরসমান পানি জমেছে। রান্নাঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় চুলা জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিবারের সবাইকে শুকনো খাবার খেয়ে থাকতে হচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এতে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টিতে ষোলোশহর-জানআলীহাট অংশের রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজার পর্যন্ত যেতে পারেনি। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামে আটকে পড়ার পর প্রায় ১১ ঘণ্টা অপেক্ষার শেষে রাত ১১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল ঘোষণা করে রেলওয়ে।

ট্রেনে থাকা প্রায় এক হাজার যাত্রী, যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন, দীর্ঘ সময় স্টেশনে আটকে থাকেন। পরে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ বলেন, রেললাইনের ওপর অতিরিক্ত পানি থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। যাদের যাত্রা বাতিল হয়েছে, তারা টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত পাবেন।