টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা, প্রাণহানি ২৬

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা, প্রাণহানি ২৬
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩৩

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। গত সাত দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত বন্যা ও পাহাড়ধসজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে পানিতে ডুবে যাওয়া শিশু, পাহাড়ধসে চাপা পড়া পরিবারের সদস্য এবং রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দারাও রয়েছেন।

সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় নৌকাডুবিতে ১২ বছর বয়সী হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার কাকারা ইউনিয়নে পানিতে ডুবে মারা যায় দুই বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ ওয়াকিম। একই দিন মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারায় তিন বছরের শিশু পুষ্প। এছাড়া চকরিয়ার মছনিয়া কাটা এলাকায় পাহাড়ধসে একটি বসতঘরের ওপর মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া কক্সবাজার সদর, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জনই রোহিঙ্গা বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জেলার ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা। পাশাপাশি সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান থেকে নেমে আসা ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। দুর্গতদের জন্য ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনে প্রশাসন কাজ করছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান জানান, সরকারি হিসাবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ১৪ হাজার ৬১ জন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ছয় দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত-৩ বহাল রাখা হয়েছে।