বন্যার ক্ষতি কমাতে বান্দরবানে ডব্লিউএফপি-র আগাম উদ্যোগ

বন্যার ক্ষতি কমাতে বান্দরবানে ডব্লিউএফপি-র আগাম উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬ ১৬:০৬

পাহাড়ে টানা বৃষ্টির কারণে বন্যার ভয় বাড়ছে। পরিস্থিতি খুব খারাপ হওয়ার আগেই বান্দরবানের গরিব ও অসহায় পরিবারগুলোকে টাকা দেওয়া শুরু করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

বন্যার কারণে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়া বা বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই মানুষের হাতে সাহায্য পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার খবরের ওপর ভিত্তি করে, বন্যার পানি বিপৎসীমা পার হওয়ার আগেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিপদে পড়া পরিবারগুলোকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

এর পাশাপাশি, সরকারি ভাতার তালিকায় থাকা অসহায় পরিবারগুলোকেও জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি টাকা দেওয়া হচ্ছে। বোলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতির (বিএনকেএস) সাথে মিলে এই কাজ করা হচ্ছে। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ পরিবার এই সাহায্য পেয়েছে। এর ফলে উপকৃত হচ্ছেন প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ।

টানা বৃষ্টির কারণে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির অনেক এলাকায় এরই মধ্যে বন্যা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ভয় আছে।

বাংলাদেশে ডব্লিউএফপি-র প্রধান কোকো উশিয়ামা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন আগের চেয়ে বেশি ও ঘন ঘন দুর্যোগ হচ্ছে। তাই বিপদের আগেই ব্যবস্থা নেওয়া খুব দরকার। তিনি বলেন, বন্যা মারাত্মক রূপ নেওয়ার আগেই এই সাহায্য মানুষের খাবার, কাজকর্ম এবং দরকারি জিনিসপত্র বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সরকারি সাহায্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করলে যেকোনো বিপদের সময় মানুষের কাছে অনেক দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মানুষ সবসময় বিপদের মুখে থাকে। প্রতি বছর বর্ষায় বন্যা এখানকার মানুষ, চাষাবাদ ও খাবারের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বর্ষাকালে এর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়ে।

বিপদ আসার আগেই ক্ষতি কমানোর জন্য ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য সংস্থার সাথে কাজ করছে ডব্লিউএফপি। তাদের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগের পর শুধু ত্রাণের ওপর নির্ভর না করে, যদি আগে থেকেই প্রস্তুতির জন্য সামান্য টাকা খরচ করা যায়, তবে পরবর্তীতে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ক্ষতি ও কষ্ট কমানো সম্ভব।

জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারের সাথে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে, যাতে যেকোনো বিপদের সময় গরিব ও অসহায় পরিবারগুলো দ্রুত সাহায্য পায় এবং তাদের টাকার কষ্ট অনেকটাই কমে।