টানা বর্ষণে জলমগ্ন ঢাকা: চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

সোমবার পর্যন্ত আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস

টানা বর্ষণে জলমগ্ন ঢাকা: চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী
ছবি: বিএসএস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬ ১৬:১১

রাতভর এবং রবিবার দিনভর টানা ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানী ঢাকার অনেক রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে গেছে। এতে রাস্তায় গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরপর সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে মাত্র ৬ ঘণ্টায় আরও ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, এই বৃষ্টি সোমবার পর্যন্ত চলতে পারে।

টানা বৃষ্টির কারণে শহরের ড্রেনগুলো দিয়ে পানি সরতে পারছে না। মতিঝিল, দিলকুশা, টিকাটুলী, শান্তিনগর, বাড্ডা, গ্রিন রোড, তেজতুরী বাজার, পান্থপথ, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মনিপুর, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া এবং কালশীসহ ঢাকার বেশিরভাগ এলাকার রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে গেছে।

রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় গাড়ির গতি অনেক কমে গেছে। ফুটপাতগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় হেঁটে চলা মানুষ বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। মতিঝিল এলাকায় অনেক অফিসযাত্রীকে নোংরা পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

দিলকুশার এক অফিসে যাওয়ার পথে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তি জানান, রাস্তায় অতিরিক্ত পানি থাকায় মাঝপথেই তাকে অটোরিকশা থেকে নেমে যেতে হয়েছে। রিকশাচালক হাঁটু পানিতে যেতে রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাকে নোংরা পানিতে হেঁটেই অফিসে পৌঁছাতে হয়েছে। অনেক আবাসিক এলাকার গলিতে পানি ঘরের দরজার কাছাকাছি চলে আসায় মানুষ আটকা পড়েছেন। এই জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাসে যেতে পারেনি।

খারাপ আবহাওয়া সত্ত্বেও জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষকে বাইরে বের হতে হচ্ছে। ছাতা মাথায় দিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না; বৃষ্টির ছাট আর নোংরা পানিতে মানুষের জুতো ও পোশাক ভিজে যাচ্ছে। রাস্তাঘাটে রিকশা, সিএনজি এবং প্রাইভেট কার খুব ধীরগতিতে চলছে। এর ওপর দিয়ে যখন বড় বাস বা ট্রাক যাচ্ছে, তখন নোংরা পানি ছিটকে এসে পড়ছে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের গায়ে।

টিকাটুলীর বাসিন্দা কল্পনা আক্তার জানান, সাথে ছাতা থাকা সত্ত্বেও অফিসে পৌঁছানোর আগেই তার গায়ের কাপড় ও জুতো পুরোপুরি ভিজে গেছে। ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি না হলে সামান্য বৃষ্টিতেই এই ভোগান্তি বারবার ফিরে আসবে।