শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৫৫

আপডেট: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:০৩

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধনের অভিযোগের প্রতিবাদে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ আট দফা দাবি তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ধানমন্ডি-নিউমার্কেট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ’, ‘এক, দুই, তিন, চার—মিলন তুই গদি ছাড়’, ‘আমি কে, তুমি কে—ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় পরীক্ষা নেওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে পানি ও কাদা পেরিয়ে, এমনকি কোথাও কোথাও নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে।

তাদের দাবি, এ পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম ভোগান্তির মধ্যে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “যতদিন জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি থাকবে এবং পরীক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হবে, ততদিন এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের দাবি বিবেচনা করা হয়নি।”

আন্দোলনকারীরা পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার অভিযোগও করেন। তাদের দাবি, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি ছিল, যা শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তারা বলেন, কঠিন প্রশ্ন নিয়ে তাদের আপত্তি নেই; তবে প্রশ্নপত্র অবশ্যই পাঠ্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তারা আট দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। এর মধ্যে প্রধান দাবিগুলো হলো—

পরীক্ষার উপযোগী পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা।

পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে ভুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নম্বর প্রদান।

শিক্ষামন্ত্রীকে নিজের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক পরিবর্তন বা ‘গবেষণা’ বন্ধ করতে হবে।

শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

ভবিষ্যতের প্রশ্নপত্র সারা বছরের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রণয়ন করতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে তাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে এবং তখন এক দফা দাবিতে—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ—কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

একই সময়ে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া রাজশাহী, বরিশাল ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।