শেখ হাসিনা দেশে এলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত সম্ভব হবে: তথ্য উপদেষ্টা

শেখ হাসিনা দেশে এলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত সম্ভব হবে: তথ্য উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৪

আপডেট: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৫

শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে তাকে স্বাগত জানাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার (জাস্টিস) নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “সরকার শুরু থেকেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে ভারতের কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি দেশে ফিরতে চাইলে আমরা তাকে স্বাগত জানাবো। কারণ আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি দেশে এলে আদালতের মুখোমুখি হবেন। আদালতই তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিচার করবে। আমরা যদি তাকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে দেশে আনতে পারি, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার সব ধরনের সুযোগ পাবেন।

তার ভাষায়, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) এখন বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে বিশ্বের সেরা আইনজীবীকেও নিয়োগ দিতে পারবেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় পর্যবেক্ষক ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াই হবে স্বচ্ছ ও আইনসম্মত।”

তিনি বলেন, আদালত যদি প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে বা ভিন্ন কোনো রায় দেয়, সরকার সেটিও মেনে নেবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, “তিনি কীভাবে দেশে ফিরবেন, সেটি একটি প্রক্রিয়াগত বিষয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দুই রাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা করেই তা সম্পন্ন হবে।”

শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের আদেশ।

তিনি বলেন, “সরকার নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে। কেউ যদি মনে করেন এ সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা এবং রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সম্মান দেখানো সবার দায়িত্ব।