টানা নয় দিনের ভয়াবহ বন্যার পর কক্সবাজারে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। জেলার অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো পানি রয়েছে। এ দুর্যোগে জেলায় ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
গত ৫ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া উপজেলা। সেখানে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১১ হাজার ২৩১টি পরিবারের প্রায় ৭৫ হাজার ৫০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ উপজেলায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া পেকুয়া উপজেলায় ৮ হাজার ৫৬২টি পরিবারের ৪৫ হাজার ৪৪৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ২ জন নিহত হয়েছেন।
মাতামুহুরী উপজেলায় ৭ হাজার ৯৮১টি পরিবারের ৪০ হাজার ২০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এই তিন উপজেলার জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, ঈদগাঁও ও মহেশখালী উপজেলাতেও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব উপজেলায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শহিদুল আলম জানান, নিহত ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দার মধ্যে ৮টি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আহত তিনজনের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৪৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে এবং প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ দিনে কক্সবাজারে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্যা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আরো পড়ুন: