এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: মৃত্যুদণ্ড ১, যাবজ্জীবন ৩

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: মৃত্যুদণ্ড ১, যাবজ্জীবন ৩
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৫

আপডেট: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক নববিবাহিত তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় চারজনকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন। তিনি জানান, ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ডিএনএ প্রতিবেদন এবং অন্যান্য উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

রায়ে সাইফুর রহমানকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া গ্রামের মো. তাহিদ মিয়ার ছেলে।

এ ছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অন্য একটি ধারায় তাদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে আদালত উল্লেখ করেছেন, দুই সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রবিউল হাসান (ইসলাম), মাহফুজ রহমান মাসুম, মো. আইনুদ্দিন (আইনুল) এবং মিসবাউল ইসলাম (রাজন)-কে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

রায় ঘোষণার আগে বিচারক মামলার ৯১ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ পাঠ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন নির্যাতিত তরুণী ও তার স্বামী, আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের একজন অধ্যাপক, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক নববিবাহিত তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা করেন।

ঘটনার তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কয়েকজন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়।

তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।