বন্যা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল

বন্যা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৫০

দেশের বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবা, নিরাপদ পানি, সাপের কামড়ের চিকিৎসা এবং গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যা শুরুর প্রথম রাত থেকেই ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন বন্যাকবলিত এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় সাপের কামড়ে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ২১ হাজার ভায়াল অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১ হাজার ভায়াল মজুত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আক্রান্তদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা গেলে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত সাপে কাটা কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে স্পিডবোট বা স্থানীয় নৌকার মাধ্যমে প্রসূতিদের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ খাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

বন্যা-পরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ৭ লাখ ২৯ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের মজুত রয়েছে আরও ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি ট্যাবলেট, যা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সরবরাহ করা হবে।

ডায়রিয়া ও কলেরা মোকাবিলায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯ ব্যাগ খাবার স্যালাইন (ওআরএস) এবং প্রায় ১০ হাজার ব্যাগ নরমাল স্যালাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত কোথাও কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা না গেলেও স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বন্যার পানি প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পানি নেমে যাওয়ার পর সেখানে পুনরায় স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা চালু হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বন্যাকবলিত এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।