বন্যা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বন্যা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৯

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সভার শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সেবা ও সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার বন্যা মোকাবিলায় সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।

তিনি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি ছাড়াই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে, যাতে ত্রাণ বিতরণ আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।

তিনি সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) সচল রাখা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো দ্রুত পুনরুদ্ধারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

পানি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নতুন বীজ বিতরণ এবং কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার।

বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা।

এলজিইডির আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্রুত সচল করার উদ্যোগ।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে চালিয়ে যাবে।