বর্ষা এলেই নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়: মির্জা ফখরুল

বর্ষা এলেই নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫৯

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজধানী ঢাকার নানা সমস্যা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকটের ফল। বর্ষা মৌসুম এলেই নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “সমস্যা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত। বর্ষা এলেই ঢাকায় সমন্বয়ের কঠিন অবস্থা বোঝা যায়।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, আর দেশের অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্র ঢাকা। সময়ের সঙ্গে রাজধানীর জনসংখ্যা ও নগরায়ণ বেড়েছে, একই সঙ্গে বেড়েছে বর্জ্যের পরিমাণ। তবে নাগরিক সচেতনতা এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিদেশে মানুষ চকলেটের মোড়ক ফেলতেও ডাস্টবিন খোঁজেন। এটি মূলত মানসিকতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের বিষয়। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, “আমরা নতুন করে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজধানী উন্নয়নে এখানে বিএনপি-জামায়াত বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখার সুযোগ নেই। মতভেদ ভুলে ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো এলাকায় তুলনামূলক সচেতন মানুষ বসবাস করলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি স্কুল পর্যায় থেকেই পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নদী দখলের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, তুরাগ নদী নিয়মিতভাবে দখলের শিকার হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। “এই নদীগুলোকে বাঁচাতে না পারলে ঢাকা শহরকেও বাঁচানো সম্ভব হবে না,” বলেন তিনি।

এ সময় রাজধানীতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চালিত ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর সুফলের কথাও তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পর সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। আইন ভঙ্গ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেক চালক এখন ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন।