একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের সব মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ গড়ার এই লড়াইটা অনেক বড় এবং ভবিষ্যতে ভালোভাবে টিকে থাকতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। দেশের ১৭টি জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তাঁদের জমিজমা, সমাজ ও সংস্কৃতির নানা সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাঁদের সব কথা শোনেন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষরা আমাদের দেশেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার এমন একটি দেশ গড়তে কাজ করছে যেখানে কারও প্রতি কোনো বৈষম্য বা অন্যায় করা হবে না। সরকার কাউকে আলাদা মনে করে না, সবাইকে নিয়েই এগিয়ে যেতে চায়।
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: সমতলের আদিবাসীদের জমির মালিকানা সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ভূমি কমিশন গঠন করা, বনের নামে বা অন্য কোনো প্রকল্পের নামে উচ্ছেদ বন্ধ করা, সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা এবং সংবিধানে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আগের ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের অর্থনীতি ও সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। তিনি জানান, আগের সরকারের আমলে প্রতি বছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা) বিদেশে পাচার হতো। এই বিপুল পরিমাণ টাকা যদি পাচার না হতো, তবে দেশের সাধারণ মানুষের অনেক সমস্যার সমাধান অনেক আগেই হয়ে যেত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এত বছর ধরে শুধু উন্নয়নের গল্প শোনানো হতো, কিন্তু আসল উন্নয়ন কোথায়? আগের সরকারের সব ঋণের চাপ এখন আমাদের ওপর এসে পড়েছে। দেশের মানুষ আমাদের ওপর অনেক ভরসা করে। আমরা সেই খারাপ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি এবং যেসব সমস্যা আগে সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো আগে করছি।"
দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তৈরি করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে সেটিকে ৫০ শয্যায় বড় করেন। আর এখন আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় রূপান্তর করার। আগের সরকার শুধু নামেই কিছু কেন্দ্র তৈরি করেছিল, যেগুলোতে কোনো কাজ হতো না।
সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংয়ের মতো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর থেকে কর বা ট্যাক্স কমানো হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কম খরচে চিকিৎসা পায়।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ এবং সংস্কৃতি কর্মী সঞ্জিব দ্রং।
আরো পড়ুন: