কুমিল্লায় ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী

কুমিল্লায় ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী
রথযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:১৭

আপডেট: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ২১:০৫

দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে নিজের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন এবং সবাই যেন মিলেমিশে থাকতে পারেন, সে জন্য বর্তমান সরকার পুরোপুরি আন্তরিক। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ধর্ম মানুষকে ভাগ করার জন্য নয়, বরং মানুষকে ভালোবাসতে এবং একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে শেখায়।

বৃহস্পতিবার কুমিল্লায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষের মিলেমিশে থাকার দেশ। কুমিল্লার ইতিহাসও হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের শান্তিতে একসঙ্গে বাস করার ইতিহাস। যুগে যুগে কিছু খারাপ মানুষ ধর্ম নিয়ে ঝামেলা তৈরি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছে। কিন্তু এ দেশের সচেতন মানুষের কারণে তারা কখনোই সফল হতে পারেনি।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও কেউ আমাদের এই শান্তি ও মিল নষ্ট করতে পারবে না। আমাদের পূর্বপুরুষরা যেভাবে একে অপরকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিয়ে একসঙ্গে বাস করেছেন, আমাদেরও উচিত আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিময় বাংলাদেশ রেখে যাওয়া।"

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, পৃথিবীর কোনো ধর্মই অন্যায়কে সমর্থন করে না। সব ধর্মই মানুষকে ভালো কাজ, মানুষের উপকার এবং শান্তির শিক্ষা দেয়। তাই ধর্মকে ঝগড়া-বিবাদের মাধ্যম না বানিয়ে, মানবিক মূল্যবোধ ও ভালোবাসার বন্ধন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

রথযাত্রার এই মেলার সুন্দর আয়োজন এবং হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখে মন্ত্রী অনেক প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই বিপুল জনসমাগমই প্রমাণ করে যে আমাদের ভেতরের ভাই-ভাই সম্পর্ক দিন দিন আরও মজবুত হচ্ছে। তিনি সবাইকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও একে অপরের প্রতি সম্মান বজায় রেখে একটি সুন্দর, শান্তিময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

উৎসবে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আকতার এবং পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামান। এছাড়াও কুমিল্লা আদর্শ উপজেলার নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সনাতন ধর্মের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ এই মেলায় অংশ নেন।