‘দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই': রথযাত্রার মেলায় চিফ হুইপ

‘দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই': রথযাত্রার মেলায় চিফ হুইপ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:১৯

আপডেট: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:৫৫

দীর্ঘ লড়াই ও আন্দোলনের পর বাংলাদেশের মানুষ গত জুলাই মাসে একটি নতুন স্বাধীনতা ও নতুন সূর্যের দেখা পেয়েছে। কোনো রকম ধর্মীয় ভেদাভেদ ছাড়া, সব মানুষের সমান অধিকারের চেতনা নিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এই মন্তব্য করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি জুলাই আন্দোলনের প্রতিটি অঙ্গীকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের কায়েতপাড়ায় শ্রী শ্রী যশোমাধব মন্দিরের প্রাঙ্গণে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শুরুতেই তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এই ঐতিহাসিক রথমেলার শুভ উদ্বোধন করেন।

চিফ হুইপ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগেই পরিষ্কার করে ঘোষণা দিয়েছেন যে, এই দেশে ‘সংখ্যালঘু’ বলে কেউ নেই। বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই সমান অধিকার পাওয়া নাগরিক। অতীতে সবাই মিলে রক্ত দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। তাই এই দেশে ধর্মের নামে কোনো ভাগাভাগি বা বৈষম্য চলতে দেওয়া হবে না।"

তিনি আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন সুবিধা যেমন—কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কারও সঙ্গে কোনো রকম বৈষম্য বা কম-বেশি করে না।

আগের রাজনীতির সমালোচনা করে নূরুল ইসলাম বলেন, অতীতে কিছু দল নিজেদের স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করত। দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সময় প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা বা আগুন দেওয়ার মতো খারাপ কাজ করে মানুষের মধ্যে মিল-মহব্বত নষ্ট করা হতো। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। বিএনপিতে কোনো উগ্রবাদ বা সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই।

চিফ হুইপ ধামরাইয়ের এই রথযাত্রাকে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে মিল ও সামাজিক সৌহার্দ্যের একটি চমৎকার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ধরনের অনুষ্ঠান দেশের ঐক্যকে আরও মজবুত করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন এবং সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসীন ফেরদৌস মুরাদ এবং ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন। এই রথযাত্রা উৎসবে এলাকার জনপ্রতিনিধি, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং হাজার হাজার ভক্ত ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।