স্লুইস গেট আর দেখবে না পানি উন্নয়ন বোর্ড, দায়িত্বে থাকবে স্থানীয় প্রশাসন

স্লুইস গেট আর দেখবে না পানি উন্নয়ন বোর্ড, দায়িত্বে থাকবে স্থানীয় প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৫৮

স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু অভিযোগের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এ বিষয়ে সরকার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এখন থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্লুইস গেটের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে না। এর পরিবর্তে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এ দায়িত্ব পালন করবেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে পেকুয়ায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনের সময় স্লুইস গেট খুলে পানি নিষ্কাশন এবং প্রয়োজনে গেট বন্ধ রেখে লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধ করা সহজ হবে। এতে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ কমবে এবং স্লুইস গেটের ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নদী ও সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বন্যা, জলোচ্ছ্বাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি নিয়মিত বাস্তবতা। এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে টেকসই ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, যাতে উপকূলীয় এলাকা আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত থাকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশনের জন্য যেসব খালের মুখ বন্ধ রয়েছে, সেখানে স্লুইস গেট নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সহজে বের হয়ে যেতে পারে। কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, লবণাক্ততা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সময়ের প্রভাবে অনেক সময় বেড়িবাঁধ ও স্লুইস গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নির্ধারিত মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিয়মিতভাবে পালন করে থাকে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় পেকুয়া উপজেলা মাঠে শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১০০ ঘর নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এসময় তিনি বলেন, সরকারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের যেকোনো বিপদ-আপদে পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, ক্ষমতার আগে জনগণ’-এই নীতিকে সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও গবাদিপশুপালকদের জন্যও সরকার সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যাদের বীজতলা, চারা বা কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করে সহায়তা প্রদান করা হবে।

এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সড়কসহ সব ধরনের অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, সরকার সবসময় দেশের মানুষের পাশে থাকবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করে বলেন, সরকার জনবান্ধব ও দরিদ্রবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয় এবং সরকারের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়।

অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং বিতরণকৃত সামগ্রী পরিদর্শন করেন।

দুইদিনের সফর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার কক্সবাজার আসেন। প্রথমদিন তিনি চকরিয়ায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।