অর্থনীতিই বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির প্রধান ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

অর্থনীতিই বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির প্রধান ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৫৯

আপডেট: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৬:০০

ভূ-রাজনীতির চেয়ে অর্থনীতিকেই বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির প্রধান ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং জনশক্তি রপ্তানির মতো অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই দেশের কূটনৈতিক নীতিনির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারে। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিও মূলত অর্থনীতিকেন্দ্রিক বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ-চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এর বেশিরভাগই আমদানিনির্ভর হলেও বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির পরিমাণ এখনও ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে চীন আগ্রহী।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হতে পারে।

মন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ এগোচ্ছে। এই যোগাযোগব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এ উদ্যোগে ভারতসহ অন্যান্য দেশও যুক্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চীনের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে বেইজিং ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক দর্শন বাস্তবভিত্তিক। “আমরা চীন ও ভারত থেকে আমদানি করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স পাই। এই অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করেই আমাদের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়া সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।