বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল করতে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির (UNDP) কাছে কারিগরি ও আর্থিক সাহায্য চেয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি চান একটি ‘ই-পার্লামেন্ট’ (e-Parliament) ব্যবস্থা চালু করতে, যার মাধ্যমে সংসদের কাজ আরও সহজ ও উন্নত হবে।
রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ইউএনডিপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি সোনালী দয়ারত্নের নেতৃত্বে একটি দলের সাথে ডেপুটি স্পিকারের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সংসদের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে কীভাবে সংসদের কাজ আরও ভালো করা যায় এবং জাতিসংঘের এই সংস্থার সাথে সম্পর্ক জোরদার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশের আইনও বদলানো দরকার। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজনে যখনই দরকার হবে, তখনই আইন আধুনিক করা উচিত।
সংসদে নতুন পাস করা তরুণদের জন্য একটি ইন্টার্নশিপ বা ফেলোশিপ প্রোগ্রাম চালুর প্রস্তাব দেয় ইউএনডিপি। এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, এর মাধ্যমে নতুন পড়াশোনা শেষ করা তরুণরা সংসদ লাইব্রেরিতে কাজ করার এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এটি তরুণদের সংসদের কাজ ও নিয়মকানুন বুঝতে অনেক সাহায্য করবে।
তবে ডেপুটি স্পিকার মনে করিয়ে দেন, সংসদের নতুন প্রজেক্টগুলো যেন এমন হয় যা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার (যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন) চলমান কাজের সাথে মিলে না যায় বা একই কাজের পুনরাবৃত্তি না হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের সংসদ সদস্যদের মধ্যে একে অপরের দেশে গিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আইডিয়া নিয়েও কথা হয়। ডেপুটি স্পিকার এটিকে ভালো উদ্যোগ বলে জানান। এছাড়া, সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিকে আরও শক্তিশালী করতে আইনি সংস্কার এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ ট্রেনিং সেশন করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
আরো পড়ুন: