ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাবে অন্তত ১৫টি জেলার নিম্নাঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সোমবার (২০ জুলাই) কেন্দ্রের প্রকাশিত বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষণাধীন নদীগুলোর মধ্যে তিনটি নদীর পানি চারটি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী, সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী একদিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে এবং উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী দুই দিন বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এদিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি ওঠানামা করছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা অঞ্চলের ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীতেও পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি নদীর পানিও বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আরো পড়ুন: