এডিআর কার্যকর হলে এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী

এডিআর কার্যকর হলে এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৩৯

দেশের আদালতগুলোতে জমে থাকা লাখ লাখ মামলার চাপ কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন প্রায় ৪৫ লাখ মামলার মধ্যে ২০ লাখ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন) কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১ অনুযায়ী অত্যাবশ্যক বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিচারকের তুলনায় মামলার সংখ্যা অনেক বেশি। প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন থাকায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে অধস্তন আদালত পর্যন্ত পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।

আইনমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, পারিবারিক আদালত আইনে ২০২৫ সালের একই সময়ে যেখানে ৩ হাজার ৫৫৯টি মামলা হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৪৪টিতে।

এছাড়া বণ্টনসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ২ হাজার ১টি থেকে কমে ৬৬১টিতে এসেছে। যৌতুক নিরোধ আইনের মামলাও ৫ হাজার ৬০৫টি থেকে কমে ১ হাজার ৮১০টিতে নেমেছে।

আইনমন্ত্রীর দাবি, বিভিন্ন আইনে গড়ে প্রায় ৬২ শতাংশ মামলা কমেছে, যা মধ্যস্থতা কার্যক্রমের কার্যকারিতার প্রমাণ।

বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বা অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের পরও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি অনেক কমবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল— এই ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সাধারণ মানুষের কাছে কম খরচে ও দ্রুত ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর মাধ্যম।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ আদালতের ওপর মামলার চাপ কমাবে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে সহায়তা করবে।