বাংলাদেশের সব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে ধারণ করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকই এই পরিচয়ের সমান অংশীদার।
বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও শুধু ধর্মের ওপর ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়নি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ধারাবাহিক প্রকাশ।
তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তার স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীনতার পর জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। শুধু ভাষাভিত্তিক পরিচয় দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এই বাস্তবতায় জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শন উপস্থাপন করেন, যা দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমমর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন—বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তার মর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত হয়। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি ও বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ শুধু ভাষা, ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দেশের সব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান ও ধারণ করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে।
সেমিনারে ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।
আরো পড়ুন: