দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২২

আপডেট: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২৭

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিয়ে এসব চিকিৎসা যন্ত্রের মান যাচাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

সভায় সংশ্লিষ্টরা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি চিকিৎসা যন্ত্রের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

সভায় জানানো হয়, পৃথক দুটি বিশেষজ্ঞ দল ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এগুলো দেশের হাসপাতালগুলোতে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় যন্ত্র দুটি তুলনামূলক কম খরচে বাজারজাত করা যাবে, যা স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সাশ্রয়ী করতে ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তারা।

এ ছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব চিকিৎসা যন্ত্র সফলভাবে উৎপাদন ও ব্যবহার শুরু হলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ভেন্টিলেটর গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম। তাই এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ব্যবহার উপযোগী। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াও ব্যবহার করা যায়। ফলে বিদ্যুৎ-সুবিধাবঞ্চিত এলাকা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহনের সময় অ্যাম্বুলেন্সেও এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ডা. মামুন শিবলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।