চলতি বছরেই ভোট শুরুর বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

চলতি বছরেই ভোট শুরুর বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৬:১৪

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন অক্টোবরের কথা বললেও সরকার চলতি বছরের মধ্যেই ভোট শুরুর বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রয়োজন হলে নির্বাচন শুরু করতে সর্বোচ্চ আরও এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। তবে ভোটগ্রহণ চলতি বছরেই শুরু হবে। ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তিগতভাবে এ নির্বাচন দলীয় নয়; প্রার্থীরা ব্যক্তি হিসেবে অংশ নেন। ফলে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা সহজে যাচাই করা সম্ভব হবে।

নির্বাচন কমিশনের সচিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনাররা সাংবিধানিক পদধারী হলেও সচিবসহ অনেক কর্মকর্তা জনপ্রশাসন থেকে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করেন। তাই সচিবের বদলি বা অন্যত্র দায়িত্ব পাওয়া প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই অংশ।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন স্থবির থাকা আলোচিত হত্যা মামলাগুলোর তদন্তেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি তনু হত্যা মামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন অগ্রগতি না থাকলেও মামলাটির তদন্ত নতুন করে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে অতীতের হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের আন্তরিকতার প্রতিফলন ঘটছে।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে হত্যার শিকার হলে তা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

তদন্ত সরকারের দায়িত্ব হলেও বিচার ও রায় দেওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তদন্তে অযথা বারবার সময় নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে সরে আসার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তালিকাভুক্ত শহীদদের জন্য সরকারের নির্ধারিত সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাংবাদিকদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রামাণ্যচিত্রে শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের ভূমিকা, তাদের পরিবারের ত্যাগ এবং সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের অবদান পৃথকভাবে তুলে ধরা হবে।