ঢাকার কতটি আসনে ছাড় দেবে বিএনপি?

ঢাকার কতটি আসনে ছাড় দেবে বিএনপি?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ২০:২৭

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকায় আসন রয়েছে ২০টি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ১৩টি আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাকি ৭টি আসন শরীকদের সাথে ভাগাভাগি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিএনপি কতটি আসনে ছাড় দেবে- সেটির অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।

ফাঁকা আসনগুলো হলো, ঢাকা-৭ লালবাগ (ডিএসসিসি ওয়ার্ড ২৩-৩১), কোতয়ালী (ডিএসসিসি ওয়ার্ড ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬), ঢাকা-৯ সবুজবাগ (ডিএসসিসি ওয়ার্ড ১-৬ ও ৭১-৭৪), মতিঝিল (ডিএসসিসি ওয়ার্ড ৭), ডেমরা (ডিএসসিসি ওয়ার্ড ৭৫), ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি), ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর এবং শের-ই-বাংলা নগর থানা এলাকার একাংশ), ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী), ঢাকা-১৮ (উত্তরা) ও ঢাকা-২০ (ধামরাই)।

আসনগুলোতে বিএনপির ত্যাগী প্রার্থী যেমন রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীও। তারা হলেন- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার অসীম, কেন্দ্রীয় নেতা মীর নেওয়াজ আলীসহ অনেকেই। 

সূত্রে জানা যায়, সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫টি আসন ছাড় দিতে পারে বিএনপি। তবে এই সাতটি আসনে দলটির ত্যাগী প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুব বিষয়ক সহ-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ মনোনয়ন চাইছেন।

ঢাকা-৯ আসনে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশীদ হাবীব। 

ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন চান বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন আহমেদ অসীম ও নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল আলম রবি। 

ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। ঢাকা-১৭ আসনে সেভাবে হেভিওয়েট কোনো প্রার্থী মনোনয়ন চাননি। ঢাকা-১৮ আসনে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর।

ঢাকা-২০ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তমিজ উদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ।

এছাড়া, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে যেকোনো একটি আসনে প্রার্থী করা হতে পারে।

এদিকে, ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়ে কয়েকদিন আগে থেকেই ঢাকা-১৩ আসনে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন ঘনিষ্ঠ মিত্র এনডিএম’র চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘জোট ডিক্লারেশন অফিশিয়ালি যখন হবে তখন জোটের প্রার্থী একইসঙ্গে ঘোষণা হবে। আমাকে মৌখিক ভাবে জানানোর পরই আমার নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছি।’ 

ঢাকার গুলশান-বনানী এলাকায় এরই মধ্যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির আরেক মিত্র দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিব রহমান পার্থ।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক বলেন, তরুণদের দল এনসিপির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ভাবে আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আবার গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীর জন্যও একটি আসন ছাড়া হতে পারে। বৃহৎ জোটের বিষয়েও আলোচনা চলছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হককেও ছাড় দেওয়া হতে পারে একটি আসন। সবকিছু হিসাব-নিকাশ করেই বিএনপি আসন ছাড় দেবে। 

তারা বলেন, ঢাকার আসনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী), ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি) ও ঢাকা-১৮ (উত্তরা) আসন। একটি আসন ছাড় দিলে অন্য দুটি আসন দলের রাখার বিষয়ে তৃণমূলের চাপ রয়েছে।

ঢাকা-১৮ (উত্তরা) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে যারা কাজ করছে, কর্মীদের কাছে কে জনপ্রিয়, জনগণের কাছে কে জনপ্রিয়, কার ওপর আস্থা আছে- অবশ্যই দল এসব বিবেচনায় রাখবে। আমি বিশ্বাস করি এসব বিবেচনায় নিলে দল আমাকেই বেছে নেবে।'

তিনি বলেন, 'রাজধানীর প্রবেশদ্বারগুলো নানা কারণে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই আমার ধারণা এই প্রবেশদ্বারগুলো দল অন্য কাউকে দেবে না। এটা দলের কর্মীদেরই দেবেন।'

আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত সোমবার (০৩ নভেম্বর) ২৩৭ আসনে প্রার্থীদের প্রাথমিক নামের তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।