বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, 'এটি সাধারণ মানুষ বোঝেন না এবং বিএনপিও এটা গ্রহণ করবে না।'
তার মতে, পিআর হলো ‘বিভ্রান্ত করা’ এবং ‘ভোট পেছানো’।
মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিসমত কেশুর বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বড়গাঁও ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'জোর করে হামাক পিআর চাপাই দিবা চাহাছে। পিআর বুঝেন? মুই বুঝিনা। আমরা এটা চিনি না আমরা দীর্ঘকাল শত বছর ধরে ভোট দিয়ে আসতেছি। মোর ক্যান্ডিডেট দাঁড়াবে তাকে তার মার্কা দেখে ভোট দিব। এটাই তো হয়ে আসছে।'
তিনি জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ করে বলেন, 'তারা পিআর আইন করতে চাইছে।' তিনি মনে করেন, এগুলো হচ্ছে শুধু বিভ্রান্ত করা, ভোট পিছানো।
নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'এবার যদি নির্বাচনটা পিছিয়ে যায় তাহলে এই দেশটা একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বিএনপি কেবল ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলোর পক্ষেই থাকবে।'
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, '৯ মাস ধরে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে যে বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তার বাইরে কোনো কিছু গায়ের জোরে এ দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে তার সব দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।'
শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'তিনি ভারতে গিয়ে হরতাল ঘোষণা করছেন এবং গাড়ি পোড়াচ্ছেন। কালকে কিন্তু গাড়িও পুড়ছে। দিল্লিতে বসে দেশের সর্বনাশ আর কইরো না। এত সাহস থাকলে, জনগণের প্রতি ভালোবাসা থাকলে পালিয়ে আছেন কেন? আসেন না কেন দেশে? আমরাও জেল খেটেছি দীর্ঘদিন আপনারাও খাটেন কিছুদিন।'
তিনি বলেন, 'গণভবনের কাছে জনগণ পৌঁছালে সামরিক বাহিনীর টেলিফোনে হাসিনা হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যান। পাবলিক আপনাকে ছিঁড়ে খায়ে ফেলবে, এই অবস্থা তৈরি হয়েছিল।'
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'কিছু দল প্রচার করছে যে তারাই একমাত্র দেশপ্রেমিক ও সৎ দল এবং তারা ‘বেহেস্তের টিকিট’ বিক্রি করে। বেহেস্তের টিকিট আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর নবী ছাড়া কাহো দিবা পারে না। এগুলো যারা করতেছে এই দুনিয়াতে তারা কিন্তু ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। আমার ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'যারা মোনাফেকি করে তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে এবং এটি ইসলাম ধর্ম নয়।'
দল ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৫ মাসের মধ্যে ১ কোটি মানুষের কাজের ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি, মা-বোনদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের সার-বিষ-পানিসহ ন্যায্যমূল্যে কেনার জন্য ‘ফার্মাস কার্ড’ দেওয়া হবে। বিএনপি বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে চায়, যাতে বিচারক নির্ভয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।'
জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, 'তিনিই সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস যুক্ত করেছিলেন। তিনি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন দিয়েছিলেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ এক থাকবে।'
ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ডা. আহম্মদ আলীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তুহিনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতারা।
আরো পড়ুন: