পদ্মাসহ একাধিক নদ-নদীর অসম পানিবণ্টনে দেশের জলসম্পদ সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ। নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, বর্ষাকালে নদী ভাঙনের কারণে হাজারো মানুষ ঘর হারাচ্ছেন। এর প্রতিবাদে ‘চলো যাই ভাই, পদ্মা বাঁচাই’ শ্লোগানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপি এক বিশাল গণসমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশের আগে মহানন্দা নদীর পাড় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে পানিবণ্টন চুক্তির ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ফখরুল বলেন, ‘পদ্মার পানি আমরা পাচ্ছি না। ২০২৬ সালে চুক্তিটি শেষ হবে, এরপর কী আসবে জানি না। ইতোমধ্যে গঙ্গার পানি ফারাক্কায় আটকে দেওয়ার কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল অংশ মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। ছোট নদী-খাল বিল শুকিয়ে যাচ্ছে, জীবন ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার পরেও ভারতের পক্ষ থেকে কোনও আগ্রহ দেখা যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় পানিবণ্টন চুক্তির পর বাংলাদেশের ন্যায্য পানির অংশ পায়নি। ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই চুক্তি করেছিলেন, যার ফলে কিছু পানি পাওয়া গেলেও সেটা অনেকটাই অপ্রতুল। এরপর যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক নিয়মিত হয়নি, যা বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘পানির ন্যায্য অংশ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদের উদ্যোগে পদ্মা বাঁচাও আন্দোলন শুরু হয়। ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা—এই তিন প্রধান নদীর পানি আটকে দিয়ে দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা সংগ্রাম করে তুলছেন। এজন্য আজকের এই আন্দোলন, হারুন সাহেবের নেতৃত্বে শুরু হয়েছে। আমরা চাই, এই আন্দোলন দুনিয়াজুড়ে পরিচিতি পাক। গ্যাঞ্জেস ব্যারেজ রাজবাড়ীতে নির্মাণ হলে মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলেও ব্যাপক উপকার হবে।’
ফখরুল বলেন, বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে নদী রক্ষা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ‘উন্নত হচ্ছে ক্লাইমেট চেঞ্জ, প্রকৃতি পরিবর্তনের প্রভাবও বেড়ে চলেছে। নদীগুলোকে যদি রক্ষা করতে না পারি, পরিবেশের ক্ষতি হলে এই দেশ টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে। তাই নদী ও প্রকৃতির সংগে সম্পর্কিত এ দায়িত্ব যত দ্রুত সম্ভব পূরণ করতে হবে।’
আরো পড়ুন: