আগের ক্ষমতায় আসা সব সরকারের আমলে দুর্নীতি হয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

আগের ক্ষমতায় আসা সব সরকারের আমলে দুর্নীতি হয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ২০:১৯

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, 'দুর্নীতি ও লুটপাটকারীদের এ দেশের জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা দুর্নীতি মুক্ত সরকার দেখতে চায়। দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলছে ও চলবে। আগের ক্ষমতায় আসা সব সরকারের আমলে দুর্নীতি হয়েছে।'

রোববার বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির নেতৃত্বাধীন সমমনা আন্দোলনরত ৮টি দলের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'আগামীতে আমরা সরকার গঠন করতে পারলে কোনো বিরোধীদের উপর দমনপীড়ন হবে না। কারো উপর অত্যাচার ও অবিচার হবে না। সুন্দর শোষণমুক্ত সমাজ গঠন করা হবে।'

তিনি বলেন, 'মানুষের মনে আশা সঞ্চার হয়েছে, নতুন বাংলাদেশ ইসলামের বাংলাদেশ হবে। এবারের সংগ্রাম চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। আমাদের ৮ দলের বার্তা, জাগরণের বার্তা নিয়ে এসেছি। পরিবর্তনের বার্তা গ্রামে গঞ্জে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের এই ৮ দল আর ৮ দল থাকছে না, আমাদের সঙ্গে আরও অনেক দল আসার আবেদন করছে। সবার প্রত্যাশা একটা নতুন বাংলাদেশ চাই।'

জামায়াতের এই নেতা বলেন, 'জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে। এখনো সুযোগ আছে, গেজেট পরিবর্তন করুন। জনগণ আগেই গণভোট চায়। এখনো সুযোগ আছে, তারিখ পরিবর্তন করুন। সরকারকে সংকটে ফেলতে চাই না। তা না হলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে গিয়ে ‘না’ তে ভোট দিয়ে দেবে।'

তিনি বলেন, 'এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে হলো ফ্যাসিবাদ বিরোধী নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সুশাসনের পক্ষে। জনগণের ম্যান্ডেট নষ্ট করা যাবে না। কোনো ষড়যন্ত্র বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।'

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, 'আগামীর সংসদ হবে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত সংসদ। চাঁদাবাজদের প্রতিহত করবো ইনশাআল্লাহ। অতীতে যারা চাঁদাবাজি করেছে, তাদের আর খাওয়া নাই। আগামীর সংসদ হবে কোরানের সংসদ। আগামীতে সচিবালয় চলবে সংসদ, বিচারালয় চলবে কোরান দিয়ে। সবকিছু চলবে কোরান দিয়ে।'

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, 'গণভোটে একটি দল ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণ ‘হ্যা’ পক্ষে ভোট দিয়ে তাদেরকে না করে দেবে। সিদ্ধান্ত নিন জুলাই সনদের পক্ষ নিয়ে ‘হা’-কে জয়যুক্ত করুন। ইসলামের বাক্সে সকল ভোট পড়বে ইনশাআল্লাহ।'

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারি বলেন, 'রক্ত দিয়েছি, রক্ত আরও দেব তবু আগে গণভোট ও জুলাই সনদ কার্যকর করবো। তাছাড়া দেশে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে, জুলাই সনদ কার্যকর করে তারপর নির্বাচন দিতে হবে। লড়াই করেছি একদিনের জন্য নয়, ৪৭ সাল থেকে। আবারও লড়াই করে আল্লাহ'র আইন কোরআনের শাসন অবশ্যই অবশ্যই কায়েম করবো ইনশাআল্লাহ।'

রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ইমাজ উদ্দিন মন্ডল ও মুফতি ইমরানের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ মো. নুরুন্নবী, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি শেখ মো. সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন, জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী, নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাকসু’র ভিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।