ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে তার অস্ত্রোপচার চলছে।
শুক্রবার বিকেলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, 'হাদির অবস্থা ক্রিটিক্যাল (আশঙ্কাজনক)। তাকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দেওয়া হয়েছে।'
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি বাম কানের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান সঙ্গীরা। এ সময় রক্তে ভেসে যায় তার পুরো শরীর।
হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার সঙ্গীরা বি নেগেটিভ রক্তের খোঁজ করছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে হাদির।
ওসমান হাদিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মিসবাহ বলেন, 'জুমার নামাজ পড়ে মতিঝিলের বিজয়নগর কালভার্ট এলাকা দিয়ে রিকশায় করে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে গুলি চালায়। গুলিটি তার বাম কানের নিচে লাগে। গুলি করেই তারা পালিয়ে যায়। এরপর ওসমান হাদিকে রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।'
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, '২টা ২২ মিনিটের দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ডিআর টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তিনটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা আসে। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।'
জুলাইর গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন ছাত্রনেতা ওসমান হাদি। বিক্ষোভের সময় তার জ্বালাময়ী বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বহু শিক্ষার্থী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামেন। গণঅভ্যুত্থানের পরও তিনি রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন।
গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি ৩০টি নম্বর থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি পেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন হাদি। ১৪ নভেম্বর ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, তাকে হত্যা, তার বাড়িতে আগুনসহ তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ওসমান হাদি লিখেছিলেন, গত তিন ঘণ্টায় আমার নম্বরে আওয়ামী লীগের খুনিরা অন্তত ৩০টা বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করেছে। যার সামারি হলো- আমাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তারা আমার বাড়িতে আগুন দেবে। আমার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণ করবে এবং আমাকে হত্যা করবে।
আরও পড়ুন…
ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ
আরো পড়ুন: