ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বারস্থ হয়েছেন দুই সম্ভাব্য সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী। তাঁরা হলেন- কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমা এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে দলের প্রার্থী আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
ইসি সূত্র জানায়, বুধবার ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন করেন।
এরপর তিনি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে কাজী রেহা কবির সিগমা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ও আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা এ তথ্য জানায়।
সিইসিকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে কাজী রেহা কবির সিগমা বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পক্ষপাতমুক্ত, সুষ্ঠু ও সবার জন্য নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের অঙ্গীকার রয়েছে। কিন্তু এই অঙ্গীকার প্রশ্নবিদ্ধ ও বাধাগ্রস্ত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে অবিলম্বে জড়িত ও দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার আবেদন জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছি। এতে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি এবং বহু কর্মী-সমর্থক সক্রিয় ভাবে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু আমার আইনানুগ গণসংযোগ কার্যক্রমে ত্রাস সৃষ্টি করে কাজ ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার পুলিশ কর্তৃপক্ষ ন্যক্কারজনকভাবে তৎপর হয়েছে।’
সিগমা অভিযোগ করে বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে আমার এক নিরপরাধ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে ভুয়া মামলায় কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। এতে আমার কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাচনী কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়।’
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, আমার কর্মী মো. কিয়ামত আলী (৫০) একজন নিরীহ ও জনপ্রিয় ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল না। অথচ ২০২৪ সালের ০৯ নভেম্বর দায়ের করা একটি মামলায় তাকে আসামি দেখানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ওই মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামিও নন। অষ্টগ্রাম থানা থেকে তার বাড়ি মাত্র ১০ মিনিটের হাঁটার পথ হলেও গত এক বছরে পুলিশ কখনো তাকে খোঁজেনি কিংবা কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, কেবল আমার কর্মীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই অষ্টগ্রাম থানা-পুলিশ বিশেষ স্বার্থে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
তিনি অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আসন্ন নির্বাচন প্রশ্নাতীত ও সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সিইসির কাছে অনুরোধ জানান।
পরে রেহা কবির সিগমা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পুলিশ ভীতি সৃষ্টি করছে। আমি ও আমার কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছি।’
এদিকে প্রার্থীদের নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে ইসিতে আসার বিষয়ে কমিশনের পদক্ষেপ জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘ব্যারিস্টার ফুয়াদ এসেছিলেন। তাঁর অভিযোগ হলো- পুলিশ তাঁর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে না। আমরা সার্বিক ভাবে সব প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি।’
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন ও একই সময়সূচিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
আরো পড়ুন: