পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. সহিদুল আলম তালুকদার। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে তার বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মো. সহিদুল আলম তালুকদারের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬০ লাখ ৩০ হাজার ৮২৯ টাকা। এ সময় তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ২৭ হাজার ৭৯৪ টাকা এবং আয়কর প্রদান করেছেন ৬৫ হাজার ৫৪ টাকা।
তিনি পেশায় কৃষক। তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩০ লাখ ৪১ হাজার ২৫৫ টাকা। তার স্ত্রী সালমা বেগমের হাতে রয়েছে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৩৪ টাকা এবং নির্ভরশীলদের হাতে রয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৭১৭ টাকা। ব্যাংকে তার নিজ নামে জমা রয়েছে ১২ হাজার ৩৯৯ টাকা, স্ত্রীর নামে ২১ লাখ ৭২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং নির্ভরশীলদের নামে ২৯ হাজার ৪৯ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, তার নামে রয়েছে ১ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার এবং ৩০ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি। স্বর্ণ রয়েছে ১৫ ভরি, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া ৬৫ হাজার ৮০০ টাকার ইলেকট্রিক সামগ্রী, ৫৫ হাজার ৫০০ টাকার আসবাবপত্র এবং ২০ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
আয়ের খাতে দেখা যায়, কৃষি থেকে আয় ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪৩ টাকা, স্থাবর সম্পত্তি থেকে ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা, শেয়ার থেকে ১৯ হাজার ৭৭৬ টাকা এবং পরামর্শক হিসেবে আয় ১৯ হাজার ৭৭৬ টাকা। তার নামে রয়েছে ৬ লাখ ৩৬ হাজার ১০৯ টাকার ফ্রিডম ফাইটার ঋণ। এছাড়া এনসিসি ব্যাংকে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১০৯ টাকার এসওডি ঋণ।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ধুলিয়া মৌজায় তার নিজ নামে ২০ একর কৃষিজমি, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা। কনকদিয়া মৌজায় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৩ একর ৩৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। বাউফল পৌরসভায় ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির ওপর একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ৩৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯২ টাকা। এছাড়া ঢাকার বনানীর এল ব্লকে চেয়ারম্যান বাড়িতে চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৩ টাকা। বাউফল পৌরসভায় তার নামে আরও ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ নাল জমি রয়েছে, যার মূল্য ২ লাখ ৫ হাজার ৯৬ টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, তার স্ত্রী একজন গৃহিণী। সর্বশেষ আয়কর বিবরণী অনুযায়ী তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৪৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৯৮ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৬ হাজার ২৩০ টাকা। তার স্ত্রীর নামে বাউফল পৌরসভায় ২৮ শতাংশ জমি রয়েছে, যার মূল্য ৭৭ হাজার ৭২৪ টাকা। এছাড়া ঢাকার পল্লবীর বাউনিয়ায় ০ দশমিক ০০৪৩৮২৮ একর জমি রয়েছে, যার মূল্য ২১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। বাউফলের কনকদিয়ায় ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ২২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৯০ টাকা। তার স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে ৮০ ভরি স্বর্ণ।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, তার নামে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা ছিল। এর মধ্যে চারটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন, একটি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন এবং ১৯৭৩ সালে বাউফল থানায় দায়ের হওয়া একটি ডাকাতি মামলায় ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা লাভ করেন।
আরো পড়ুন: