বাংলাদেশের ইতিহাসে আপসহীন রাষ্ট্রনায়ক খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের ইতিহাসে আপসহীন রাষ্ট্রনায়ক খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪১

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন আপসহীন ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কেবল গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক নন, বরং বাংলাদেশের আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম রূপকার। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় তিনি এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন।’

সোমবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। 

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ এবং ব্যবসায়ীদের আরও ১৭টি সংগঠন যৌথ ভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত গড়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর অবিচল নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা আর যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক খাতে খালেদা জিয়ার অবিচল নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা আর যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যক্তিখাত ও প্রাইভেটখাতে যে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, তা বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করে নিয়েছিলেন। তিনি ধনী-দরিদ্র কারো কথা ভুলে যাননি। সবাইকে নিয়ে সকলের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন।’

খালেদা জিয়া প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা দূরে রেখে সবাই মিলে ঐক্য ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তা দিয়েছেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের কাছে সত্যিকার অর্থেই একজন আইকন। এই নেত্রীর মধ্যে সাধারণ মানুষগুলো বাংলাদেশকে খুঁজে পেয়েছিল। তাদের ভবিষ্যৎকে দেখতে পেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে কখনোই অস্বীকার করা যাবে না। তিনি কষ্ট করেছেন, জেলে গেছেন। আমি তাঁর কোনো তুলনা খুঁজে পাই না। কারণ, তিনি একদিকে ছিলেন একজন রাজনৈতিক দলের নেত্রী। আবার একাধারে ছিলেন গোটা জাতির নেত্রী। তিনি কখনো সংকীর্ণতায় ভুগতেন না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি ফিরে আসবেন না। কিন্তু তাঁর যে কাজ, তাঁর যে রেখে যাওয়া স্বপ্ন, সেগুলোকে আমাদের বাস্তবায়িত করতে হবে।’

এ সময় খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা কবি আল মাহমুদের কবিতা ‘তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ’ আবৃত্তি করে শোনান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া সত্যিকার অর্থেই একটি জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা আশা করি, তাঁর এই চলে যাওয়া আমাদেরকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে। শোক শক্তিতে রূপান্তরিত করবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের এক নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করব।’

স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিসি-বি সভাপতি মাহবুবুর রহমান।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, ত বাংলাদেশ চেম্বার অফ ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)’র সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির।