বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করলেও তা বিলুপ্ত করে শেখ হাসিনা প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসন চালু রেখেছিল।’
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার বাবা সবসময়ই বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। তারা জনগণের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় ও এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। অথচ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৯ বছরব্যাপী সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে এ দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করেন। একইসঙ্গে দেশের বাস্তবতা ও চাহিদা বিবেচনায় এনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এরই পরিণতিতে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে। পরাজিত হয়ে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নেয় বিদেশে। এই শক্তি কখনোই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান করেনি। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে তারা এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার হরণ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকার এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং আলেম সমাজের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ ছিল আলেম বিদ্বেষী ও ইসলাম বিদ্বেষী সরকার।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শাপলা চত্বরে আলেম সমাজের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে। রাতের অন্ধকারে নিরীহ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হত্যা করা হয়েছে, বহু আলেমকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এভাবে তারা দেশের গণমানুষ ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস করেছে। এর ফলস্বরূপ জনগণের বিরোধিতার মুখে তারা চিরতরে ক্ষমতা থেকে উৎখাত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হলো- আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? জনগণ ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চায়। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায়- যেখানে আইনের শাসন থাকবে, সুবিচার নিশ্চিত হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
পহরচাঁদা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফরিদ আহমদ আজিজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী, পহরচাঁদা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন হায়দার, উপদেষ্টা জালাল আহমদ সিকদারসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
আরো পড়ুন: