বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁও জেলায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন কোনো রাজনৈতিক প্রচার সফর নয়, বরং এটি একটি ব্যক্তিগত, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি। সফরের মূল উদ্দেশ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ, জুলাই গণআন্দোলনে নিহত শহীদদের কবর জিয়ারত এবং আহত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সহমর্মিতা প্রকাশ।
শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের কালিবাড়ী এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এই সফরকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে একটি মানবিক ও সামাজিক সফর হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এবার একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, যেসব সংস্কার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তার বড় একটি অংশ বিএনপির আগের রাজনৈতিক আন্দোলন ও দাবির ধারাবাহিকতা। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ‘না’ বলার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাদেরকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের সামনে রাজনৈতিক বক্তব্য বা মতাদর্শ তুলে ধরার সুযোগও সীমিত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটবে না।
উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অবহেলিত অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি অতীতেও এসব এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছে। ভবিষ্যতে তারেক রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে উত্তরাঞ্চল এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন: