জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা: জরিপ

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা: জরিপ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:১৩

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি ৩৪.৭ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ৩৩.৬ শতাংশ, এনসিপি ৭.১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ শতাংশ এবং অন্যান্য দলের প্রতি ৪.৫ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে চারটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে করা এক জনমত জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়।

প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি), জাগরণ ফাউন্ডেশন এবং ন্যারাটিভ- এই চার প্রতিষ্ঠান যৌথ ভাবে জরিপের আয়োজন করে।

জরিপের ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির কর্মকর্তা শফিউল আলম শাহীন। তিনি বলেন, 'জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের মোট ২২ হাজার ১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশগ্রহণ করেন।'

সমর্থনের ভিত্তি হিসেবে বিএনপির সমর্থকদের ৭২.১ শতাংশ বলেছেন, দলটির অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা প্রধান কারণ। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা দলটিকে মূলত কম দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সততার ভাবমূর্তির জন্য সমর্থন করছেন।

এছাড়া, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সমর্থন করার পেছনে ৩৬.৭ শতাংশ মানুষ জুলাই বিপ্লবে ভূমিকাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।

জরিপে ১৭ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন। তাদের মধ্যে ৩০.১ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করতে পারছেন না এবং ৩৮.৬ শতাংশ ভোটার কোনো মতামত দেননি। এই ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গেম চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন।

শফিউল আলম বলেন, 'জরিপের ফলাফল অনুযায়ী- আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের একটি বিশাল অংশ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।'

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের প্রফেসর মুশতাক খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসের ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।