জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এগোবে: খসরু

জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এগোবে: খসরু
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক সংলাপে কথা বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।ছবি : বাসস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:০৩

রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই প্রয়োজনীয় সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার পেছনে জবাবদিহিতার অভাব বড় কারণ, আর সেই আস্থা ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় রাজনীতি, সুশীল সমাজ ও নাগরিক প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় হয়।

আমীর খসরু বলেন, রাজনীতিবিদদের ওপর জনগণের আস্থা সংকট বাস্তব এবং তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে পারবেন না এবং জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আলাদা কোনো বড় স্লোগানের প্রয়োজন পড়বে না।”

সংসদীয় ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশ কার্যত সংসদীয় জবাবদিহিতার বাইরে পরিচালিত হয়েছে। সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকলে সরকারকে নিয়মিত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় এবং সেখানেই জবাবদিহিতার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়। তিনি বলেন, সংসদের বাইরেও সুশীল সমাজ, এনজিও ও নাগরিক সংগঠনগুলোর কাছেও সরকার ও রাজনীতিবিদদের জবাবদিহি থাকা জরুরি।

গণতান্ত্রিক পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে সুশীল সমাজের ভূমিকা অপরিহার্য উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, সুশীল সমাজকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে না দিলে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা জন্ম নেয়। তাঁর মতে, কোনো সরকার এককভাবে সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব জরুরি, আর সে কারণেই বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করতে চায়।

রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের অনাস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেক সময় রাজনৈতিক বক্তব্যের পর জনগণ কী গ্রহণ করল বা কী প্রশ্ন তুলতে চায়— তা জানার সুযোগ থাকে না। এই বাস্তবতা থেকে বিএনপি একটি ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করছে বলে জানান তিনি। বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনায় বক্তৃতার পাশাপাশি দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা হচ্ছে, যাতে রাজনীতিবিদদের সরাসরি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা যদি শুধু কথা বলে চলে যান, তাহলে আস্থার সংকট দূর হয় না। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হলে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়তে পারে।

এসডিজি বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত এই সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক রওনক জাহান ও দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, চিকিৎসক ও সামাজিক উদ্যোগী ডা. তাসনিম জারা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বিশ্লেষকদের মতে, আমীর খসরুর বক্তব্য জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে চলমান জাতীয় আলোচনাকে আরও গভীর করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।