বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘বেহেশত ও দোজখের মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ সেটা অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। যারা বিভিন্ন টিকিট দিচ্ছে, যেটার মালিক মানুষ না, কিন্তু সেটার কথা বলে শিরক করছে। নির্বাচনের আগেই একটি দল মানুষকে ঠকাচ্ছে, এবার নির্বাচনের পর কেমন ঠকান ঠকাবে বুঝে নেন। তাদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘একটি দল বলছে, সব দেখছেন, এবার তাদের দেখেন। দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা দেখেছে। তাদের কারণে দেশের লাখ লাখ মানুষ শহিদ হয়েছে। তাদের তো মানুষ দেখেই ফেলেছে। সে জন্যই বলি, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।’
তিনি বলেন, ‘যারা ৫ আগস্টের ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে তারা মানুষের টুঁটি চেপে ধরে রেখেছিল। মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম-খুন করেছে। জেলে বন্দি করে রেখেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু তারপরও মানুষ মাথা নত করেনি। মানুষ তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছে। অসংখ্য মানুষের প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। ১৯৭১ সালে মানুষ যেভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিল, ২০২৫ সালে মানুষ রাস্তায় নেমে স্বাধীনতা রক্ষা করেছে।’
নির্বাচন নিয়ে দেশের ভেতরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে খেয়াল করছি, দেশের ভেতরের কিছু কিছু মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ঠিক যেমন ফ্যাসিস্টরা ভোটাধিকার হরণ করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে প্রমাণ হয়েছে, দেশের মানুষ রাস্তায় নামলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা উন্নয়নের নামে দেশের সম্পদ লুট করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আগে সিলেট থেকে ঢাকা আসা যেতো ৪/৫ ঘণ্টায়। তথাকথিত উন্নয়নের ফলে এখন ১০ ঘণ্টা লাগে। এই সময়ে সিলেটের মানুষজন লন্ডন চলে যেতে পারে।’
অতীতের তিনটি নির্বাচনের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১৫ বছরে আমরা দেখেছি ভোটের নামে ব্যালেট ডাকাতি হয়েছে। নিশি রাতের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আমরা এসব অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই।’
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ের কৃষি বিপ্লবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘শহিদ জিয়া এ দেশে প্রথম খাল খনন শুরু করেছিলেন। আমরা বিজয়ী হলে আবারও খাল খনন শুরু করব। কৃষকদের দুর্দশা দূর করব।’
আগামী দিনের নিজের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা তাদের সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সকল পরিবারকে ফ্যামেলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামেলি কার্ডকে বাস্তবায়ন করতে, কৃষি কার্ড বাস্তবায়ন করতে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে চাই। বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই। আমরা কাউকে বেকার রাখতে চাই না।’
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের তরুণ জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তরিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সিলেটের বিদেশগামী তরুণদের টেনিং ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দক্ষ মানুষদের আমরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চাই।‘
তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১৫/১৬ বছর এই দেশকে অন্য দেশের কাছে যারা বন্ধক দিয়েছিল। সেজন্য আমি বলেছি, দিল্লি নয় পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।’
তিনি বলেন, ‘টেইক ব্যাক বাংলাদেশ। সেই পথের আমরা অর্ধেক পেরিয়ে এসেছি। স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি। এখন বাকি অর্ধেকটা পেরোতে হবে। ভোটাধিকার আদায় করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছি। এখন ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশকে গড়ে তুলতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। এ জন্যই আরেকটা কথা বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।‘
এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন। এটি বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভা।
জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসে চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আরো পড়ুন: