বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌছাবে তো? প্রশ্ন নাহিদের

বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌছাবে তো? প্রশ্ন নাহিদের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৯

বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌছাবে তো? দুই হাজার টাকার কার্ড নিতে এক হাজার টাকার ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো? যদি ঘুষ-চাঁদাবাজি নির্মূল না হয়, এসব সুযোগ-সুবিধা কি জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে?

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে আদর্শ হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনি সমাবেশে এসব প্রশ্ন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)'র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, 'আমরা শুনেছি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আমরা চাই কার্ড দেওয়া হোক, জনগণ সুবিধা পাক।'

তিনি আরও বলেন, 'একদিকে বলা হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড দেবে, আরেক দিকে ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আদালতকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। যদি প্রকৃতপক্ষেই জনগণকে সুবিধা দেওয়ার নিয়ত থাকে তাহলে কেউ ঋণখেলাপিকে নমিনেশন দিতে পারে না। যারা ঋণ পরিশোধ করেননি তারা সংসদে গেলে আপনাদের মনে হয় তারা ঋণ পরিশোধ করবেন? এরা আবারও ঋণ নেবেন, এরা আবারও টাকা লুট করবেন। এরা আবারও টাকা পাচার করবেন বিদেশে।'

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, 'প্রথম কথা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। উভয় দলের জন্য, উভয় জোটের জন্য একই রকম আচরণবিধি থাকতে হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমরা এখনো মুখে বলে যাচ্ছি, মাঠে নামিনি। কারণ আমরা মাঠে নামবো নির্বাচনের জন্য। আমাদেরকে আন্দোলনের দিকে নামতে বাধ্য করবেন না।'

তিনি বলেন, 'আমরা তো এই বাংলাদেশ চাইনি। আমরা তো সেই লুটতরাজের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করেছি। নতুন কোনো লুটেরাদের আমরা ক্ষমতায় যেতে দেবো না। বাংলাদেশের জনগণ তাদের ক্ষমতায় যেতে দেবে না।'

ওসমান হাদিকে স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'শরিফ ওসমান হাদি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের পক্ষে, ভোটাধিকারের পক্ষে লড়াই শুরু করেছিলেন। আমরা মনে করি, আমাদের জাতীয় লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলমান। আধিপত্যবাদী শক্তি, ফ্যাসিস্ট শক্তি এখনো দিল্লিতে বসে কথা বলতে পারছে, নানা ষড়যন্ত্র করতে পারছে। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং দেশের ভিতরে দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধের লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।'

গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'গণঅভ্যুত্থানের পরে যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম- আমরা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের অনেক অসমাপ্ত কাজ রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবো ঐক্যবদ্ধ ভাবে।'

তিনি আরও বলেন, 'বলা হচ্ছে বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। বস্তিবাসী ফ্ল্যাট চায়নি আপনাদের কাছে। বস্তিবাসী চায় নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা। বস্তিবাসী চায় মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান।'

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, '১২ ফেব্রুয়ারি ১০ দলীয় জোট সমর্থিত যারা প্রার্থী রয়েছেন- আপনারা তাদের জয়ী করবেন। এবারের নির্বাচন শুধু সরকার বদলের নির্বাচন নয়, দেশ বদলের নির্বাচন। নির্বাচন ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য নয়, ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন।'

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ।