তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:২৮

আপডেট: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৩৫

তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের জন্য নির্ধারিত স্থানে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তারেক রহমান জেলার চারটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়তে হবে। সকালে ভোট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লাইনে দাঁড়াতে হবে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে ছিল, সেই মানুষগুলোর প্রতি সম্মান জানাতে হলে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সজাগ থাকতে হবে। ভোট যাতে সবাই দিতে পারে। কিন্তু এরই ভেতরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। টের পাচ্ছেন কিছু আপনারা? গত কয়েকদিন ধরে দেখবেন পত্রিকায় সংবাদ বের হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর আসছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে বলে আসছি প্রবাসে যারা আমাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব আছে, যারা বাংলাদেশি আছে তাদের ভোটের ব্যবস্থা করার জন্য। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আমরা পত্রিকার মাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারছি যে, একটি রাজনৈতিক দল সবগুলো পোস্টাল ব্যালট দখলের চেষ্টা করছে। সজাগ থাকতে হবে। তারা ভোট কেনার চেষ্টা করছে। এখন আবার ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করছে। আপনার, আপনার পরিচিত মানুষগুলোর ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করছে। জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। সতর্কও থাকতে হবে।’

একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক সময় বলছে অমুককে দেখেছেন, তমুককে ক্ষমতায় দেখেছেন; এবার আমাদের দেখুন। এখন ১৯৭১ সালে কী হয়েছি? ১৯৭১ সালে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু সে দিন এ রাজনৈতিক দল কাদের পক্ষ নিয়েছিল? যারা এ দেশকে স্বাধীন হতে দেয়নি তাদের পক্ষ নিয়েছিল। তাদের পক্ষ নেয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ মা-বোন তাদের সম্মানহানি হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল। ভাই, যাদের দেখার কথা বলছেন, তাদের তো ৫০ বছর আগেই দেখেছি। তাদের ভূমিকা দেশের বিরুদ্ধে ছিল। কাজেই নতুন করে আর দেখবার কিছু নাই। এখন একমাত্র রাস্তা হচ্ছে জনগণের শাসন কায়েম করা। যারা এ দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।’

‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ষড়যন্ত্র যে করছে তার আরও একটি খবর হচ্ছে, তাদের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি নম্বর নিচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিরীহ মা-বোনদের মোবাইল নম্বর নিচ্ছে। তারা বলে, সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে। বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, ফোন নম্বর নিচ্ছে। বিকাশ করে টাকা পাঠাচ্ছে। এই বলে তাদের পরিকল্পনা! অনেকেই এরইমধ্যে ধরাও পড়েছে। এগুলোও পত্রিকায় খবর এসেছে। তাহলে যারা নির্বাচনের আগে মানুষকে এভাবে টাকা পাঠাচ্ছে, আগেই যারা অসৎ কাজ করে তারা কী করে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে?’

তিনি বলেন, ‘যারা নির্বাচনের আগেই অসৎ কাজ করে, কোনো ভাবেই তাদের পক্ষে সৎ কাজ করা সম্ভব নয়। তারা যদি ক্ষমতায়ও যায়, এ দেশে একমাত্র শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ করে দেখিয়েছেন কীভাবে দুর্নীতিকে দূর করতে হয়।’

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক এমপি শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আলহাজ্ব জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে সভাস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। এরপরই তিনি মঞ্চে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেন।