চট্টগ্রামকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ার পরিকল্পনার কথা বললেন আমীর খসরু

চট্টগ্রামকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ার পরিকল্পনার কথা বললেন আমীর খসরু
সোমবার চট্টগ্রামের নিমতলা খালপাড় এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি : বাসস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০৮

আপডেট: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৪৮

চট্টগ্রামকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও লজিস্টিক্স কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ঘিরে এই অঞ্চল আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিতে পারে।

সোমবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের বন্দর নিমতলা খালপাড় এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আধুনিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত ব্যবসা হাব হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। তার মতে, এই অবকাঠামো শুধু বাংলাদেশের চাহিদা পূরণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করতে পারবে।

আমীর খসরু বলেন, বন্দর ও বিমানবন্দর ঘিরে আধুনিক ওয়্যারহাউজ, কনটেইনার ডিপো, শিপিং সার্ভিস এবং অন্যান্য সহায়ক বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে পুরো এলাকা একটি আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক্স বেল্টে পরিণত হবে। এখান থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্যিক লেনদেন পরিচালনা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প-কারখানা, উৎপাদন, রপ্তানি-আমদানি এবং বিতরণ ব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবেও চট্টগ্রামের ভূমিকা বাড়বে। এ কারণে আলাদা করে কোনো ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ ঘোষণার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দরের সুবিধার কারণে চট্টগ্রাম স্বাভাবিকভাবেই দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হবে।

নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু একটি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। তিনি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরন বদলেছে এবং সরাসরি মানুষের কাছে গিয়ে তাদের কথা শোনাই এখন সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

তিনি যোগ করেন, বিএনপির উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনকল্যাণমূলক নীতির কথা ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে হবে বাস্তবসম্মত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে।

গণসংযোগকালে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলালসহ দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ঘিরে এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী আলোচনায় উন্নয়ন ও অবকাঠামোকে নতুন করে সামনে আনছে।