ক্ষমতায় এলে একটি কার্ডের মধ্যেই সব সুযোগ-সুবিধা: নাহিদ ইসলাম

ক্ষমতায় এলে একটি কার্ডের মধ্যেই সব সুযোগ-সুবিধা: নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, 'এখন তো কার্ডের রাজনীতি চলছে, আমরা বলছি, একটা কার্ডই প্রয়োজন সেটা হবে এনআইডি কার্ড বা নাগরিক কার্ড। ক্ষমতায় আসলে একটি কার্ডের মধ্যে আমরা সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে আসব।'

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার পর তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, 'আমরা অনেক অপরচুনিটি মিস করেছি। পুরানো দলের সঙ্গে জোট করার ফলে আমরা আমাদের নতুন বন্দোবস্তের লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। সংস্কারের প্রতিশ্রুতি আমরা পেয়েছি যেগুলো গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। ১১ দলও জোট ক্ষমতায় আসলে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এ বিষয়গুলো আমরা বাস্তবায়ন করব।'

তিনি বলেন, 'ভিন্ন ভিন্ন দল থাকলেও এই জোট সরকার গঠন করলে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের পরিকল্পনায় কাজ করবে না। বাস্তবায়নযোগ্য ইশতেহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা। অনেকেই অনেক বড় বড় কথা বলে নির্বাচনের আগে। তবে আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রণয়ন করেছি।'

এনসিপির এই নেতা বলেন, 'সরকার গঠন করলে আমরা শিক্ষা, সংস্কার, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব।'

তিনি বলেন, 'এনসিপির জন্য আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যখন আমরা গণঅভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছি। সেই দল একটি জোট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এখানে কতগুলো বিষয় আসছে- যেগুলো পুরো এনসিপির চলার সঙ্গে সম্পর্কিত। যখন জাতীয় নাগরিক পার্টি আমরা শুরু করি, আমরা কতগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়ে, ঘোষণাপত্র দিয়ে শুরু করেছিলাম।'

তিনি আরও বলেন, 'গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের দলের নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমাদের যেই চিন্তা বা আদর্শের জায়গাটা, সেটাও গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।'

নাহিদ ইসলাম বলেন, 'আমরা অগাস্টে শহীদ মিনারে স্পষ্টত কয়েকটি কথা বলেছিলাম। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। অর্থাৎ একটা ফ্যাসিবাদী যে সিস্টেম আমাদের গত ১৬ বছরে তৈরি হয়েছে, গত ৫০ বছরে স্বাধীনতার পর থেকেই যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে এবং যেটার কারণে আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রে কখনো পৌঁছাতে পারিনি।'

তিনি বলেন, 'শেখ হাসিনার সময় বা বিগত রেজিম এদের একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। যেটা বাংলাদেশের মানুষের ওপরে ব্যাপক দমন-পীড়ন, নির্যাতন চলে। আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল,  রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল।আমাদের জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছিল, জুলাইয়ের পরিস্থিতিতে সারাদেশের মানুষ রাজপথে নিয়ে এসে সেই ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম। এই ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করে একটা নতুন বন্দোবস্ত করতে হবে, যে বন্দোবস্তটা বাংলাদেশের স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।'